Wireless Earphone

Mpow T5/M5 aptX True Wireless Earbuds with cVc 8.0 Noise Cancellation

Introduction: প্রথমেই কথা বলি এর বিল্ড কোয়ালিটি ও কানেক্টিভিটি নিয়ে। এটি IPX7 ওয়াটারপ্রুফ। হাতে নিয়ে প্রিমিয়াম ফিল পাওয়া যায়। ইয়ারপিসগুলো কানে ভালোভাবেই ফিট হয়। তাই বাইরের নয়েজ খুব একটা পাওয়া যায় না।

বিল্ট কোয়ালিটি: একটা ডাউনসাইড হচ্ছে ইয়ারপিসগুলোতে বাটন দেয়া হয়েছে। কোন টাচ কন্ট্রোল নেই। বাটন টিপে টিপে প্লে/পজ, ভলিউম কন্ট্রোল করতে হয়। এই বাজেটে আসলে টাচ কন্ট্রোল এক্সপেক্ট করেছিলাম। তবে এর বাটনগুলোর রেসপন্স খুব ভালো। পেয়ারিং প্রসেস খুবই ইজি ও স্মুথ। চার্জিং কেইস থেকে একটা ইয়ারবাড বের করে কানেক্ট করলেই আরেকটি ইয়ারবাড অটোমেটিক কানেক্ট হয়ে যাবে। একটা খুবই কাজের ফিচার হচ্ছে- চাইলে একটি ইয়ারবাডও ইউজ করা সম্ভব। এক্ষেত্রে অপর ইয়ারবাডটি চার্জিং কেইসে রেখে দিলে কাজ শেষ। তবে আমার যে জিনিসটা সবচেয়ে বেশি কাজে লেগেছে তা হলো এর ফিজিক্যাল on/off বাটন। Xpods 3t তে এই জিনিসটা অনেক মিস করছি। xpods যদি অফ করতে হয় সেক্ষেত্রে ইয়ারবাডগুলো চার্জিং কেইসে রাখতে হয়। কিন্তু m5 এ নিজস্ব ফিজিক্যাল অফ বাটন আছে। রাইট ও লেফট ইয়ারবাড কিছুক্ষন চেপে ধরে রাখলেই পাওয়ার অফ হওয়ার ভয়েস কমান্ড শুনতে পাওয়া যায়। সুতরাং ইয়ারবাডগুলো অফ করার জন্য চার্জিং কেইসে রাখতে হয় না এবং xpods 3t এর মতো অযথা অন থেকে চার্জ নষ্ট করে না। ওভারঅল এটার বিল্ড কোয়ালিটি নিয়ে আমি মোটামুটি স্যাটিসফাইড। তবে কিছু ইমপ্রুভমেন্টের সুযোগ অবশ্যই রয়েছে।

সাউন্ড কোয়ালিটি: Mpow M5 এর সাউন্ড কোয়ালিটি অসাধারণ। একদম ব্যালেন্সড সাউন্ড flame 2 এর মতো। পরিমিত পরিমানে বেইজ আছে। যাদের আরো বেশি বেইজ দরকার তারা ইকুয়ালাইজার/ভালো মিডিয়া প্লেয়ার(Poweramp/Stellio/Blackplayer) ইউজ করে সাউন্ড এডজাস্ট করে নিতে পারবেন। মাত্রাতিরিক্ত বেস-ট্রেবল বা ভোকাল শাউটিনেস কোনোটাই নেই M5 এ। M5 এর সাউন্ড সিগ্নেচার হালকা V হলেও যথেষ্ট পরিমানে ভোকাল প্রেজেন্স আছে। বেজ এর টেক্সচার সুন্দর, মিডিয়াম Depth. ব্যালান্সড ডিটেইলস। সাউন্ডস্টেজ এবং ইমেজিং ও চমৎকার। যদিও কিছু কিছু গানে মনে হবে Bass আরেকটু বেশি হলে বা Treble এ আরেকটু Sparkle থাকলে ভালো লাগতো, তবে আমার মতে Low/Highs বেশি বুস্টেড হলে মিডরেঞ্জ (vocals) চাপা পড়ে যায়। তাই যেরকম আছে সেরকমই আমার কাছে বেস্ট মনে হয়েছে।সেই সাথে স্টেরিও ইমেজিং খুব ভালো হওয়ার কারণে সাউন্ড ফিল করা যায়। একমাত্র বেইজ বাদে সব সাউন্ড সেকশনে xpods 3t থেকে mpow m5 বেটার পারফর্ম করেছে। একেবারে লো ভলিউম থেকে শুরু করে ফুল ভলিউমে শুনেও কোনো ফ্যাটিগ পাইনি। । সব মিলিয়ে বেশ স্মুথ এবং ভালো লাগার মত সাউন্ড।

কল কোয়ালিটি: ভয়েস কল কোয়ালিটি মিডিয়াম বলা যায়। নিরিবিলি পরিবেশে অবশ্যই কথা বলা সম্ভব। কলার আপনার কথা ক্লিয়ারলি শুনতে পাবে। তবে নয়েজি সিচুয়েশনে একটু বেগ পেতে হয়। এটার কল কোয়ালিটি একদম আইডিয়াল না হলেও বাজারের অন্য tws থেকে বেটার বলা যায়। এটাতেও অন্য যেকোন tws এর মতো ল্যাটেন্সি ইস্যু আছে। তবে সেটা শুধুমাত্র গেমিংয়ে টের পাওয়া যায়। আমি ইউটিউব/স্ট্রিমিং করতে গিয়ে তেমন কোন ল্যাটেন্সি ইস্যু ফেইস করিনি।

ব্যাটারি লাইফ: Mpow M5 এর সবচেয়ে বড় চমক হচ্ছে এর ব্যাটারী লাইফ। 3-4k বাজেটে এর চেয়ে বেশি ব্যাটারি ব্যাকআপ আমার জানামতে অন্য কোন tws দেয় না। আমি নিজে প্রায় ফুল ভলিউমে সাড়ে ৫ থেকে ৬ ঘন্টার মতো ব্যাকআপ পেয়েছি। এটা অনেক বেশি লাউড। তাই ৫০-৬০% ভলিউমেই অনেকে শুনতে পছন্দ করবেন। আমি গতকাল ৫০% ভলিউম দিয়ে ব্যাটারি টেস্ট করছিলাম। অবাক করার মতো ব্যাপার হচ্ছে প্রায় ১০ ঘন্টার কাছাকাছি ব্যাকআপ পেয়েছি। ব্যাপারটা অবিশ্বাস্য মনে হওয়ায় আবারো টেস্ট করবো বলে ভাবছি। যাই হোক এটা aptx সাপোর্টেড। সুতরাং aptx কোডেক দিয়ে প্লে করলে সাউন্ড কোয়ালিটি বেটার হবে এবং ব্যাটারি বেশি ড্রেইন হবে। সুতরাং যাদের স্মার্টফোন aptx সাপোর্ট করে তাদের এটা কাজে লাগবে। চার্জিং কেইসের ফুল চার্জ শেষ করার সময় হয়নি। তবে আমার জানামতে প্রায় ৬-৭ বার ইয়ারবাডগুলোকে চার্জ করা সম্ভব। সেই হিসেবে প্রায় মিনিমাম ৪০ ঘন্টার মতো প্লেব্যাক পাওয়া সম্ভব ইয়ারবাড ও চার্জিং কেইস থেকে। ভলিউমের কারণে রেজাল্ট ভিন্ন হতে পারে। xpods 3t ও mpow m5 দুটোরই চার্জিং কেইসে প্রায় 800 Mah ব্যাটারি আছে। কিন্তু দুইটাতে ব্যাটারি ব্যাকআপ ভিন্ন পেয়েছি। খুব সম্ভবত qualcomm এর চিপসেট ইউজ করার কারণে m5 বেশি এনার্জি এফিশিয়েন্ট। যাই হোক ৪০ ঘন্টার মতো ব্যাটারি ব্যাকআপ জিনিশটা আসলেই অনেক কাজের। অনেকের হয়তো একবার চার্জ দিয়েই পুরো মাস চলে যাবে।

সুতরাং Mpow M5 এর ম্যাজেস্টিক সাউন্ড কোয়ালিটি ও এক্সট্রাঅর্ডিনারী ব্যাটারি ব্যাকআপের কারনে এর অন্য সব flaws এর কথা আমার মতো সবাই ভুলে যেতে বাধ্য। সুতরাং যাদের 4k বাজেট আছে এবং এটা নিবেন কিনা সে ব্যাপারে কনফিউজড ছিলেন তারা অবশ্যই এটা নিয়ে নিতে পারেন। এটাকে ইজিলি “বাজেট কিলার” tws হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়।

যে জিনিসগুলো ভালো লেগেছে:

**বক্সে যে ইয়ারটিপ্সগুলো দেয়া আছে সেগুলোর কোয়ালিটি অনেক ভালো এবং কানে Comfortable. বাইরের নয়েজ থেকে ভালো আইসোলেশন দেয়।
**চার্জিং কেসে ব্যাটারি ইন্ডিকেটর আছে যেটা দেখে বোঝা যায় কেসের ব্যাটারি লেভেল কতটুকু।
**ইয়ারবাডসের লাইটবার শেপ টা বেশ স্টাইলিশ, চার্জ করার সময় Orange Led জ্বলে উঠে যেটা দেখতে বেশ সুন্দর।
**ইয়ারপিসের বাটন ধরে রাখলে গান Forward/Backward করা যায়। Left earpiece ধরে রাখলে backward এবং right earpeice ধরে রাখলে Forward হয়।
**IpX7 water resistant কেস এবং ইয়ারবাডসে Qualcomm Aptx codec আছে যা এই বাজেটের tws এর জন্য সত্যিি প্রশংসনীয়
*** আর সবচেয়ে ভালো লেগেছে যে বিষয়টা- Mpow এর সব ইয়ারফোনেই ২ বছরের রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি। মানে কেনার পরে নিশ্চিন্তে ইউজ করা যাবে কোনরকম টেনশন ছাড়া।

ভালো লাগেনি:

** চারজিং কেসের সাইজ অন্যান্য নরমাল Tws er থেকে দেড়গুন বড়। যদিও এটা ইগ্নোর করা যায় এর বিস্ট ব্যাটারি লাইফ বিবেচনা করে। সাইজ বেশি বড় বলে পকেটে ঢুকিয়ে রাখা একটু ঝামেলা।
**চারজিং কেসে Microusb port. টাইপ সি হলে ভালো হত।

#দাম:৩৫০০-৪০০০ টাকা

#2_years_official_warranty

Back to list

Leave a Reply

Your email address will not be published.